উপজেলা কমিটি না থাকায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিকেলে মিয়ারহাট বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় অন্য গ্রুপের একাংশের। বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এমন বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি স্বরূপকাঠি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুলতলা ঘুরে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কাজী কামাল হোসেনসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।
এরপর উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর অপর পাশে ডাকবাংলোর সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নদীরপাড় সড়ক হয়ে পুরাতন থানা সড়ক, তেঁতুলতলা ও জগন্নাথকাঠি বাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন নাছির উদ্দীন তালুকদারসহ তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
প্রায় একই সময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানের নেতৃত্বে তৃতীয় একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারা।
একই দিনে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফখরুল আলমের নির্দেশনায় মিয়ারহাট বান্দরের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দলের কেন্দ্রীয় ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি একসঙ্গে পালন না করে ৪টি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘চারটি গ্রুপ একদিনে পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক অবস্থানে ছিল। তবে কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’’
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, ‘‘উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই, তাই হয়তো নিজ নিজ স্বক্ষমতা দেখাতে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি হয়েছে। সবাইকে একত্র করে আহ্বান করা হয়েছিল কর্মসূচি করতে। তবে কেউই তা করেনি। আমি সরেজমিনে এ কারণে আসিনি। তবে আমার লোকজন সর্বত্রই ছিল।’’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘কমিটি হলে এই সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে। কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্যের কারণে এমনটা হয়েছে।’’
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘নেছারাবাদে দলীয় পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। এটি কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি। তাই তাদের একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করার প্রয়োজন ছিল না। মূল বিষয় হলো, কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না।’’
তবে দলের এত বড় একটি কর্মসূচি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করলে ভালো হতো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘পৃথক কর্মসূচি পালনের মূল কারণ হলো, নেছারাবাদে বিএনপির কোনো কমিটি নেই।’’ তবে সবাই একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করলে আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









