বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘শহীদের রক্ত মাটিতে শুকাতে না শুকাতেই শেখ হাসিনা আওয়াজ দিচ্ছেন, তিনি নাকি দেশে আসবেন! উনি আসতে পারেন; কিন্তু এই দেশের সরকার, এই দেশের আইন-আদালত যে অঙ্গীকার করেছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, সেই আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।”
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়ে রিজভী বলেন, “অসংখ্য রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেল তার আমলে। গ্রামে-গঞ্জে, খেতে-খামারে নতুন করে উৎপাদন শুরু হলো। মাইলের পর মাইল খাল কাটলেন। দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠল এবং কল-কারখানার চাকা আবার ঘুরল। ফসলের মাঠে উৎপাদন বৃদ্ধি পেল কয়েক গুণ।’’
তিনি বলেন, ‘‘খাল কাটাসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এত ভালো হলো যে, দরজা খুলে ঘুমানো যেত জিয়াউর রহমানের আমলে। এই যে গ্রাম পুলিশ, গ্রামে-গঞ্জে গ্রাম পুলিশ—কার সৃষ্টি? জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। মহিলা পুলিশ কার সৃষ্টি? জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। গ্রামগঞ্জ থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটল। কিন্তু, কুচক্রীরা, ষড়যন্ত্রকারীরা তো বসে থাকে না। এ দেশের এক শ্রেষ্ঠতম দেশপ্রেমিককে হত্যা করল।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আসলেন, আবার গণতন্ত্র হত্যা। বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আন্দোলন করে ১৯৯০-এ গণতান্ত্রিক শক্তি এনেছেন। বিরোধী শক্তি জনগণকে দাবিয়ে রেখে অন্য কোনো দেশের আধিপত্যের মধ্যে দেশকে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই আধিপত্যবাদের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেই বিপ্লব, সেই বিপ্লবই হচ্ছে ৭ই নভেম্বর। সেই বিপ্লব হচ্ছে সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস।”
তিনি বলেন, “আবার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ। ওই ১৯৭২-৭৩-এ যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার কন্যা এক ভয়াবহ দুঃশাসন চালু করলেন। রাষ্ট্রের চরিত্রই দিয়ে দিলেন ঘুম, খুন আর গুপ্ত হত্যার। বাংলাদেশের চেহারা মানেই একটা ভয়ঙ্কর চেহারা। এখানে গুম হয় বিরোধী দল, এখানে খুন হয় বিরোধী দল, এখানে ক্রসফায়ার হয় তরুণরা, শ্রমিকরা। শেখ হাসিনার রাজত্ব। তাই, আবার জনগণ, সেই তরুণরা, সেই ছাত্ররা, সেই শ্রমিক, রিক্সাওয়ালা, জনগণ নিজের রক্ত দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটালো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনের প্রেরণা হচ্ছে ৭ নভেম্বর। ৭ নভেম্বরে মানুষ যেভাবে জেগে উঠেছে, ঠিক সেভাবে ৯০-এ জেগে উঠেছে, ঠিক সেভাবে জুলাইয়ে জেগে উঠেছে ২০২৪ সালে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন মাঝে মাঝে আওয়াজ দেয়, কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। উনি নাকি চলে আসবেন ডিসেম্বরে। তাহলে আবু সাঈদদের শহীদ করলেন, আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করালেন, এই অপরাধ, এই পাপ, এই হত্যার কি বিচার হবে না?”
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রত্যেকেই সেই ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে আজও জেগে আছে, নির্ঘুম জেগে আছে, অতন্দ্র জেগে আছে। এই দেশকে কারো সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









