মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ২১ দিন দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ১৪ জেলে। প্রত্যেকের মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তারা নিজ নিজ চরে ফিরে আসেন। ফিরে আসারা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের জেলে। এখনো আলোরকোলের রফিকুল ও খালেক মহাজনের ১২ জেলে দস্যুদের কাছে জিম্মি রয়েছেন বলে মহাজনদের সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় জানা যায়, দস্যুরা চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুই মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন। প্রত্যেক জেলের জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে দস্যুদের।
দুবলারচর শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যে কোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে বিপুল সংখ্যক জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দস্যু দমনে সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে কম্বিং অপারেশন শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চলে এখন দস্যুরা পরাস্ত হয়নি। তারা জেলে অপহরণসহ মহাজনদের নানাভাবে হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে। তাই দস্যু দমনে শরণখোলা রেঞ্জে কার্যকর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান এই বন কর্মকর্তা।
এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









