গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের নাম গনকপাড়া। এ গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া মচ্চ নদীর অলিরঘাট পারাপারে ৬ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। একটি ব্রিজের অভাবে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। স্বাধীনতার আগ হতে এই ভোগান্তির মধ্যে দিয়েই ৬টি গ্রামের মানুষের জীবন যাপন করে আসছেন।
সরেজমিনে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষে যাওয়া প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো গনকপাড়া গ্রামে সীমানা সংলগ্ন মচ্চ নদীর অলির ঘাট। নদীর ঘাট হতে ঘাটের কিনারা অনেক উঁচু হওয়ায় নদী পারাপারে ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। আর এ কারণে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের গনকপাড়া, জাফর, মুংলিশপুর, পালপাড়া, শীলপাড়া, জাইতরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এপার থেকে ওপারে চলাচলের জন্য তাদের শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলতেই পারে না। নদীর পানি শুকিয়ে গেলে চলাচলের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাঁশের সাকো তৈরি করা হয় এবং নদীতে পানি বেড়ে গেলে পারাপারের জন্য নৌকার ব্যবস্থাও থাকে না। তখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন আরো বেড়ে যায়। প্রতিদিন যাতায়াত করা স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, এনজিওকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন এই অলিরঘাট দিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আজও একটি ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। এ ভোগান্তি যেন পথচারীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অলিরঘাট পেড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের দূরত্ব ২ কিলোমিটার, যাতায়াতের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারে ২ কিলোমিটারের স্থলে পথচারীদের ঘুরতে হয় অন্তত ৮ কিলোমিটার রাস্তা। তাই এ ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। পথচারীরা এই ঘাট পার হয়ে হাট-বাজারে যাতায়াত করে থাকেন। সাধারণ মানুষের দাবি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের।
কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন,' আশপাশের গ্রামের মানুষও এই ঘাট দিয়ে পার হয়। বিশেষ করে আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ পার্শ্ববর্তী ঘোড়াঘাট ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাট-বাজার করে। তারা অন্য ঘাট দিয়ে পার হয়ে গিয়ে দুপুরে বাড়িতে যখন আসে তখন নদীর ওই পারে গাড়ি, সাইকেল রেখে আসতে হয়। শুকনা মৌসুম বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে পারাপারের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা পোহাতে হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ খুব দরকার।'
স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী আশিক বাবু বলেন, 'এই বাঁশের সাকো দিয়ে হেঁটে যখন স্কুলে যাই বুক খালি ছটফট করে, কখন যে পড়ে যাই তার কোনো ঠিক নাই। পরনে স্কুল পোশাক পরা থাকে, পড়ে গেলে আর স্কুলে যাওয়া হয় না সেদিন। কতদিন যে পড়ে গিয়েছে তার ঠিক নাই। তাই দ্রুত সময়ে মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের দাবি এই স্কুল শিক্ষার্থীর।'
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ এদিনকে জানান,'অলিরঘাট দিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে আসছে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অতি দ্রুতার সাথে ব্রীজ অথরীটির সাথে ডিসি স্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ করবো যাতে ব্রীজ নির্মাণ হয় এবং ওই এলাকার মানুষের দুঃখ লাঘব হয়।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









