সারা দেশের মতো রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায়ও বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র গরম, ফলে জনজীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। দিনে-রাতে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ, বাতাস নেই এ অবস্থায় শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই চার্জলাইট দিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন ঘুমের ঘাটতি ও অস্বস্তির কারণে পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিদ্যুৎ না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। নেবুলাইজার, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ বৈদ্যুতিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এদিকে, চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিদ্যুৎ বিভাগের সমালোচনা করে অনেকে পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ লিখছেন, “গরমে থাকা যায় না, বিদ্যুৎও নেই-এভাবে কিভাবে চলবে?” আবার কেউ বলছেন, “পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ দিন।” অনেকেই লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বাঘাইছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রোকৌশলী শুগত চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাড়ে আট হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক চাহিদা চার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন কিন্তু আমারা পাচ্ছি মাত্র দেড় মেগাওয়াট তাই আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করতে ২/৩ ঘন্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হয়। এই অচলাবস্থা দূর করতে জাতীয় গ্রিড থেকে যদি নূনতম দুই বা আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয় তাহলে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর পরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ির কৃষকরাও এই সংকটে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেচ কাজে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় সময়মতো পানি দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









