নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানবাহন সংকটে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে শহরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক চার্জ করা সম্ভব হয়নি। ফলে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের উপস্থিতি ছিল খুম কম।
পরীক্ষার দিন সকালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন শতাধিক শিক্ষার্থী। অনেককে রাস্তায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দৌড়ে কিংবা বিকল্প উপায়ে কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার যেসব যানবাহন পাওয়া গেছে, সেগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের দৃশ্যও ছিল লক্ষণীয়। একেকটি ব্যাটারি চালিত রিকশা বা ভ্যানে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে যাত্রা করেছেন।
শহরের গোলাহাট এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান জানান, সকালে পরীক্ষা দিতে বের হয়ে দেখি রাস্তায় কোনো যানবাহন নেই। পরে জানতে পারি, বিদ্যুৎ না থাকায় রিকশা-ভ্যান চার্জ হয়নি। শেষ পর্যন্ত এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে অনুরোধ করে কোনোভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাই।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা, হিমি, রেশমা, কাউসার ও আয়েশাসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, পরীক্ষার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে বের হলেও রাস্তায় কোনো যানবাহন পাইনি। যেগুলো ছিল, সেগুলো আগে থেকেই ভর্তি ছিল। পরে অনেক কষ্টে একটি রিকশায় অন্য যাত্রীদের অনুরোধ করে ৭-৮ জন মিলে উঠে কেন্দ্রে যাই।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও একই ভোগান্তিতে পড়েন। অফিসগামী মানুষ, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণির মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন।
উল্লেখ্য গত রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি রবিবার সকাল থেকে অব্যাহত আছে। তুমুল বৃষ্টিতে মূল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাটু জ্বল জমেছে। চারিদিকে পানি আর পানি সাতে বিদ্যুতের কর্কশ গর্জন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সকাল পর্যন্ত অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত যানবাহন অচল হয়ে পড়ে। এতে শহরের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এমন ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। এদিকে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









