১৯৭৯ সালে সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে সংঘটিত হয়েছিল ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। সরকারি হিসাবে এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মাত্র দুজন। তবে বিভিন্ন বেসরকারি নথিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই গণহত্যার ইতিহাসের অনুপ্রেরণায় নির্মিত সিরিজ ‘ফেউ’। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চরকিতে মুক্তি পাওয়া সুকর্ণ শাহেদ ধীমান পরিচালিত সিরিজটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর এবার ফিরছে সিরিজটি। তবে এবার দর্শক দেখতে পাবেন গল্পের সম্পূর্ণ অংশ।
নতুন সংস্করণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’। আগামী ১১ নভেম্বর চরকিতে মুক্তি পাবে এটি। এ উপলক্ষে গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে সিরিজটির টিজার। টিজারে আবারও নজর কেড়েছে এর ব্যতিক্রমী দৃশ্যায়ন ও গল্পের জটিল বুননের আভাস।
সিরিজটির গল্প মূলত বাংলাদেশিদের বীরত্বগাথা। এখানে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে রহস্যময় চরিত্র মার্শাল। অন্যদিকে তরুণ ড্যানিয়েল ভিনদেশি এজেন্টদের বিরুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সুন্দরবনের গভীরে পেঁচানো সাপের মতো বিস্তৃত এক জগতে গড়ে উঠেছে সিরিজটির মহাকাব্যিক আখ্যান।
সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও গল্পটি কাল্পনিক। এর কাহিনি লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান। চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ।
প্রথম সিজন শেষ হওয়ার পর দর্শকদের মনে কয়েকটি প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। সুনীল কি আদৌ বেঁচে আছে, নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে? সুন্দরবনের মৌয়াল থেকে জলদস্যু বাহিনীর সর্দার হয়ে ওঠা মার্শাল (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) কি নিজের অধিকার আদায় করতে পারবে? ‘ডুমুরঝাপি’র বাসিন্দারাই বা শেষ পর্যন্ত আশ্রয় পাবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নতুন সংস্করণে।
সিরিজটির নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান জানিয়েছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট জনপদের ভূরাজনীতির নানা দিকও স্পষ্ট হবে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’তে।
নির্মাতার ভাষ্য, “প্রথম সিজনে আমরা গল্পটির ভিত্তি ও ইতিহাস খুব বিশদভাবে তৈরি করেছিলাম। এবার গল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাচ্ছে। ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ দেখলে দর্শক পুরো গল্পটি একেবারে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এমনকি যারা প্রথম সিজনটি দেখেননি, তারাও এটি দেখলে কোনো অসম্পূর্ণতা বোধ করবেন না। বলতে গেলে, আলাদা করে প্রথম সিজন বলে আর কিছু থাকছে না; ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’-ই ফেউয়ের আসল ও পূর্ণাঙ্গ গল্প।”
নতুন সংস্করণে সুনীল ও মার্শাল চরিত্রের পরিণতিই থাকছে মূল আকর্ষণ। চরিত্র দুটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।
মার্শাল চরিত্রটি নিয়ে নূর ইমরান বলেন, “মার্শাল চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তার লুক, পোশাক, শারীরিক ভাষা ও আচরণে দারুণ একটি গভীরতা রয়েছে। পুরো কাজটির অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অবশেষে দর্শক পুরো গল্পটা দেখতে পাবেন এবং এটি দেখার পর তারা আসল রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছি।”
সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, তানভীর অপূর্ব, হোসাইন জীবন, রিজভী রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস ও এ কে আজাদ সেতুসহ অনেকে। পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক শিল্পীও এতে অংশ নিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









