বেলজিয়ামের প্রায় তিন হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ভস্মীভূত করে জার্মানির সীমান্তের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বেলজিয়ামের ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের প্রশাসনিক মুখপাত্র স্টেফানি এরনক্স রবিবার (১৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো জার্মানির দিকে ধেয়ে যাওয়া আগুনের সম্মুখভাগ আটকানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা ও আর্দ্র হওয়ার আভাস আছে। ফলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘হাই ফেনস’-এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের অগ্নিনির্বাপক দল, সশস্ত্র বাহিনী ও স্থানীয় কৃষকরা আগুন নেভাতে একযোগে কাজ শুরু করেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলজিয়াম সরকারের জরুরি সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জরুরি ভিত্তিতে ৩টি হেলিকপ্টার ও ২টি বিশেষ ওয়াটার-বোম্বার বিমান মোতায়েন করেছে।
এদিকে জার্মানির মনশাউ শহরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে আগুন সরাসরি ছড়ানোর ঝুঁকি কম থাকলেও সীমান্ত এলাকায় মারাত্মক ধোঁয়াশার সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সুরক্ষার খাতিরে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে লিজে প্রদেশের গভর্নর কার্যালয় জানিয়েছে, খালি করা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের আপাতত ঘরে না ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষাবেষ্টনী এখনো কার্যকর থাকায় কোনো আবাসিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে ধোঁয়ার তীব্রতা অনেক বেশি।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে চলমান পঞ্চম দফার তীব্র তাপদাহের মধ্যেই বেলজিয়ামে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটল।
বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে ও দীর্ঘস্থায়ী হতে ভূমিকা রাখছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









