বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তরুণদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের আচরণ নিয়ে ২৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতায় ২৫০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তদারকি সংস্থা কমিটি পি এসব অভিযোগ পেয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ব্রুজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটি পি জানিয়েছে, ৯ ও ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পুলিশের কথিত অসদাচরণ নিয়ে অভিযোগগুলো জমা পড়েছে। ফেডারেল সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি এবং ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভ শুরু হয়।
৯ অক্টোবর এসিভি ও এবিভিভি ট্রেড ইউনিয়ন দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করে। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনও যোগ দেয়। পুলিশের হিসাবে, ওই দিনের সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় গণপরিবহনের বাস, ভাড়ায় চালিত গাড়ি এবং সড়কের বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও আতশবাজিসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে।
ওই ঘটনায় পুলিশ ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অস্ত্র রাখা, সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২১ জনকে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে হাজির করা হয়।
১৭ অক্টোবর আরেকটি তরুণদের বিক্ষোভও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুলিশ ১৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। তরুণদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সার্ভিস দ্রোয়া দে ঝ্যুনের পরিচালক পিয়েরে-ইভ রোসে বলেন, তার সংগঠন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশি সহিংসতার অভিযোগসংবলিত একাধিক বক্তব্য পেয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। আরেকজনের কলারবোন ভেঙে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
সংগঠনটি ৯ ও ১২ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য পেয়েছে। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভসংক্রান্ত অভিযোগও আসছে। সার্ভিস দ্রোয়া দে ঝ্যুন ও ফরাসিভাষী মানবাধিকার সংগঠন লিগ দে দ্রোয়া জ্যুমা বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাসের ঘন ঘন ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপস্থিতিতে এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









