যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সামরিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন ইংলিশ জানায়, বৈঠকে দেশের জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, পার্লামেন্ট সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জনসমাবেশে ইরানিদের সচেতন ও প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় সরকার ও পার্লামেন্টের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ইরানের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর আইনপ্রণেতাদের কার্যক্রম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবিলায় পার্লামেন্টের চলমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খামেনিকে অবহিত করেন গালিবাফ।
আগে ২০২৬ সালের ২৮ মে পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় সরকার ও পার্লামেন্টের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছিলেন খামেনি। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, দুর্নীতি দমন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পার্লামেন্টের সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
‘যুদ্ধ ও আলোচনা একসঙ্গেই চলবে’
বিগত সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, টেকসই প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিপক্ষকে ইরানি জনগণের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে একই সঙ্গে যুদ্ধ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। তবে এর অর্থ অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ বা অন্তহীন আলোচনা নয়।
গালিবাফের দাবি, ইরানের সক্ষমতা কমে গেছে ভেবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছে। তাঁর মতে, ইরানের শক্তি এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো বুঝতে পারে, আগ্রাসনের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করার সমালোচনাও করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণের পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং ইরানি জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









