যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২৬ সালের সাখারভ পুরস্কারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) বেছে নিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। আন্তর্জাতিক আইন, বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষায় আদালতের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
হেগভিত্তিক আদালতটির প্রতি ইউরোপের এই সমর্থনকে ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার রক্ষায় আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি এ পুরস্কার। আদালতের তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম, বিচার এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বা অনুমোদনের কাজকে এ স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে পুরস্কার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। বিচারিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। তার মতে, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের গুরুত্ব এ পুরস্কারের মাধ্যমে আবারও স্বীকৃতি পেয়েছে।
১৯৮৮ সাল থেকে দেওয়া সাখারভ পুরস্কার মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। আগামী ডিসেম্বরে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি দেওয়া হবে।
আইসিসিকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সমাজতন্ত্রী ও গণতন্ত্রী গোষ্ঠী। ভোটে সমাজতন্ত্রী, উদারপন্থী, সবুজপন্থী ও বামপন্থীদের সমর্থন আদালতের পক্ষে যায়। অন্য দুই চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন কারাবন্দি তানজানীয় মানবাধিকারকর্মী তুন্দু লিসু এবং ইরানের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই যমজ বোন তারানেহ ও রোমিনা রহিমি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, আইসিসিকে স্বাধীনভাবে, চাপ ও ভয়ভীতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সাখারভ পুরস্কার
সাখারভ পুরস্কার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দেওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা। ১৯৮৮ সালে প্রবর্তিত এ পুরস্কারের মাধ্যমে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সোভিয়েত পদার্থবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী আন্দ্রেই সাখারভের নাম অনুসারে পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। প্রতিবছর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এ পুরস্কারের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করে। এর মাধ্যমে নিপীড়ন, অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









