সৌন্দর্য, দক্ষতা আর ফুটবলীয় আনন্দের এমন মিশেল খুব কমই দেখা যায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে কোমোর মাঠে নিকো পাজ যেন খেলছিলেন নিজের আনন্দে। কোনো চাপ নেই, কোনো তাড়াহুড়া নেই—বন্ধুদের সঙ্গে ফুটসালের মতো স্বচ্ছন্দ, অথচ প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক। দুই গোল আর দুভিকাসকে দিয়ে একটি গোল করিয়ে আর্জেন্টাইন তরুণই হয়ে উঠলেন কোমোর ৪-১ ব্যবধানের জয়ের নায়ক।
তার দুটি গোলের মধ্যে কোনটি সেরা, তা বেছে নেওয়াই কঠিন। কোমো যখন নিজেদের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করছিল, তখনো নিকো থামেননি। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস আর আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতায় প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছেন তিনি। তাকে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেছেন আন্দ্রে সান্তোস ও বালেবা।
গত মৌসুম পর্যন্ত নিকোর প্রতিভা নিয়ে যতটা আলোচনা ছিল, তার সামর্থ্যের কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষাও ছিল ততটাই। কারণ, বড় খেলোয়াড়ের পরিচয় শুধু ভালো সময়ে নয়, কঠিন সময়েও মেলে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে গোল পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, কোথায় হারিয়ে গেল তার সেই ঝলক?
কোমোর কোচ সেস্ক ফাব্রেগাস অবশ্য তাতে বিচলিত হননি। রোমার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, নিকো শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নন; দলের গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণগুলোতেও তার অবদান রয়েছে। পেশাদার ফুটবলে এটি তার মাত্র তৃতীয় মৌসুম। জাতীয় দলের হয়ে খেলা এবং ভ্রমণের চাপও আছে। ফাব্রেগাসের মতে, এমন উত্থান-পতন স্বাভাবিক।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিকো যেন সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন মাঠেই। প্রতিপক্ষের ছন্দহীনতা থাকলেও প্রিমিয়ার লিগের একটি দলকে হারানোর রাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া সহজ নয়। নিকো দেখালেন, তিনি ম্লান হয়ে যাননি, অতিরিক্ত প্রশংসার ওপরও নির্ভরশীল নন।
সেরি আ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে একসঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কোমোর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নিকো পাজের মতো খেলোয়াড় যখন ছন্দে থাকেন, তখন ভালো খেলা আর জয়—দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কোমো দুটিই চাইতে পারে। আর ইউরোপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন সেই নিকোই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









