ওয়েবসাইট পরিচালনার বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে ৩২টি সরকারি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও চারটি সেবা আংশিকভাবে অকার্যকর রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ত্রুটিটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বুধবার ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে ওয়েবসাইটের অপারেটররা পিএইচপির ত্রুটি ঠিক করার চেষ্টা করেন।
পিএইচপি ওয়েবসাইট তৈরির একটি প্রোগ্রামিং ভাষা, যা উইকিপিডিয়া ও ওয়ার্ডপ্রেসের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত হয়। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের শনাক্ত করা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা আক্রান্ত ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর মাধ্যমে তথ্য চুরি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ কিংবা ভবিষ্যতে আবার হামলার জন্য গোপন প্রবেশপথ তৈরি করা সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও সমাধানে কাজ চলছে। তবে বড় কোনো জনসেবামূলক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়নি। কিছু সেবা নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো হ্যাক হয়েছে।

সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ডের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন কোটি ওয়েবসাইট এ ধরনের ঝুঁকিতে থাকতে পারে। ক্লাউডফ্লেয়ারের হিসাবে, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়।
পিএইচপি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০০৪ সালে প্রকাশিত পঞ্চম সংস্করণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্করণে এই ত্রুটি রয়েছে। বর্তমানে সমর্থিত ৮.২ ও পরবর্তী সংস্করণগুলোর জন্য নিরাপত্তা সংশোধনী দেওয়া হবে। ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা নেই; হালনাগাদ করাই একমাত্র নিরাপদ পথ।
ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স জানিয়েছেন, ত্রুটিটি প্রকাশ্যে আসার আগের ১০ ঘণ্টাতেই হাজারোবার কাজে লাগানোর চেষ্টা দেখা গেছে। পরে সেই চেষ্টা বেড়ে লাখ ছাড়িয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কয়েক লাখ থেকে লাখ লাখ প্রচেষ্টায় পৌঁছায় বলে তিনি জানান।
এদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের বাজেটের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একটি নিরাপত্তাত্রুটি বিভিন্ন দেশ ও খাতের ডিজিটাল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









