যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাকে এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন তেলের বাজারে এই পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। কয়েক মাসের মধ্যে এটি দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয় এবং সংঘাতসংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত পূরণ করে, তাহলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছেন।
এদিকে তেলের দাম কমার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতের শেয়ারবাজারেও। বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমেছে। তবে জ্বালানির ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনায় অন্যান্য কয়েকটি খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আর্নে লোহমান রাসমুসেন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার সংকেত কৌশলগত হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলা অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে।
সোমবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরেও আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের অন্তত একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনটি হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









