নাটোরের গুরুদাসপুরে কৃষক পর্যায়ে সারের সংকটের মাঝে দুইজন ডিলার বিরুদ্ধে পাশের উপজেলায় সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পাচারের সময় ৩০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৩টি অটোভ্যান জব্দ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্ত বিলবিয়াসপুর এলাকা থেকে ওই সারগুলো জব্দ করা হয়। পরে অটোভ্যান চালকসহ সারের বস্তাগুলো উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় নেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, ডিলার গিয়াস উদ্দিন ‘ক্যাশমেমো’ ছাড়াই পাশের তাড়াশ উপজেলার শামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদের কাছে সার বিক্রি করেছিলেন। অটোচালক নাজিম উদ্দিন ওই সারগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে মেসার্স সিদ্দিকুর রহমান শাহ’র ডিলার পয়েন্ট থেকে দুইটি অটোভ্যানে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার যাচ্ছিল পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
অটোচালক আল আমিন ও জুবায়ের হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অটোভ্যানসহ ৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘অভিযান চালাকালে অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ডিলার গিয়াস উদ্দিন সার বিক্রি করলেও অটোচালককে কোনো ক্যাশ মেমো দেয়নি। অপর ডিলার সিদ্দিকুর রহমানের প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়। ক্যাশমেমোতে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলবিয়াসপুর গ্রামের কৃষক জুবাইদ এবং রানীগ্রামের কৃষক আলআমিনের নাম থাকলেও সারগুলো পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চন্ডিপুরে যাচ্ছিল। অটো চালকরা তা স্বীকারও করেছেন।’’
উপজেলা কৃষি কমকতা রাফিউল ইসলাম জানান, মাস খানেক আগে ডিলার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১০ বস্তা সার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ভুল স্বীকার করে সে দফায় পার পেয়ে যান তিনি। ডিলার সিদ্দিকুর রহমান শাহ’র প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তার পরও সার কেলেঙ্কারিতে থেমে নেই তারা।
সার পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর রহমানের প্রতিনিধি বাবু মোল্লা দাবী করে জানান, তারা সার পাচার করেননি। গুরুদাসপুর উপজেলার বিলবিয়াসপুর গ্রামের কৃষক জুবাইদ এবং রানীগ্রামের কৃষক আল-আমিনের কাছেই সারগুলো বিক্রি করেছিলেন। তাদের নামেই ক্যাশমেমো কাটা হয়েছে। তবে কেনো বা কী কারণে সেই সারগুলো পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় যাচ্ছিল জানা নেই তার।
আরেক অভিযুক্ত ডিলার গিয়াস উদ্দিন দাবী করেন, তাড়াশ উপজেলার শামপুর গ্রামের কোন কৃষকের কাছে সার বিক্রি করেননি। অটোচালক মিথ্যা বলেছেন। সার বিক্রি করলে ক্যাশ মেমো দিতাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘‘সারের কোন সংকট নেই। চলতি অক্টোবর মাসে ডিএপি ১ হাজার ১০০ মে. টন, ইউরিয়া ১ হাজার ২২০ মে. টন, টিএসপি ৫৫০, এমওপি সার ৪৭৫ মে. টন সার ২০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিলি করা হয়েছে। ডিলারদের ডিও করতে বলা হয়েছে ,আশা করা যাচ্ছে এক সপ্তাহে মধ্যে কৃষকরা সার পাবেন।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘‘পাচার হওয়া সারের মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় সারগুলো জব্দ ও ৩টি অটোভ্যানকে আটক দেখানো হয়েছে।’’ তবে সার কারসাজি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









