যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং নিজ দলের ওপর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরের শাসনামলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে অসন্তোষ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নিজেই ভোটের লড়াইকে তার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে পরিণত করেছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বারবার বলেছিলেন, তাকে যেন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেই ভোট দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তার সেই কৌশলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে অভিবাসন ও আটককেন্দ্র পরিচালনা, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ, শুনানি আয়োজন এবং সমন জারির ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়বে। এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
তবে নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্যেও নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও তিনি প্রয়োজনে তাদের প্রস্তাবিত আইনে ভেটো দিতে পারবেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত তার প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর চাপ তৈরি করলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার হাতে থাকা সাংবিধানিক ও নির্বাহী ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত হয়ে যাচ্ছে না। ফলে আগামী দুই বছর হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্ব, তদন্ত এবং রাজনৈতিক দর-কষাকষি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান দলের ভেতরেও নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতারা এখন থেকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তার প্রশাসনকে এখন শুধু বিরোধী দলের চাপই নয়, নিজ দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও মোকাবিলা করতে হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









