মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দুই পশ্চিমা এবং দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান ও তার মিত্রদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে সরাসরি ইরানের মাটিতে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে রিয়াদ আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও সাহসী অবস্থান নিয়েছে।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এই ঝটিকা হামলাগুলো চালায়। মূলত সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও বেসামরিক স্থাপনায় হওয়া হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরানের অভ্যন্তরে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা প্রমাণ করে যে, রিয়াদ এখন নিজেদের রক্ষায় একক সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, কেবল সৌদি আরবই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই। তবে আমিরাত ও সৌদির কৌশলে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে; আমিরাত যেখানে সরাসরি চাপের নীতি গ্রহণ করেছে, সেখানে সৌদি আরব হামলার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রেখেছে।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, হামলার বিষয়টি সৌদি আরব গোপনে ইরানকে অবহিত করেছিল। এর পরপরই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। সৌদি আরব আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এপ্রিলের শুরু থেকে সৌদি আরবে হামলার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে আসে। ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে যেখানে ১০৫টির বেশি হামলা হয়েছিল, ১ এপ্রিলের পর তা ২৫-এ নেমে আসে।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হলেও সাম্প্রতিক এই গোপন সংঘাত প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখনো অত্যন্ত নাজুক। বর্তমানে উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









