রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু ও ৭ জন পুরুষ রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মাপাড়ে প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের আহাজারিতে ঘাট এলাকায় হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় আজ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬ জনে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোররাত পর্যন্ত ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে উদ্ধার করা হয় রাজবাড়ীর কালুখালির বোয়ালিয়া গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে মো. জাহাঙ্গীরের (৫৫) মরদেহ।
জানা গেছে, আজ নতুন করে তিনটি মরদেহের মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার করা হয় উজ্জ্বল খান (৩০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ। তিনি রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামের মজনু খানের ছেলে। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয় আশরাফুল (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ। তিনি কালুখালি উপজেলার বেলগাছি গ্রামের আফসারের ছেলে। এ নিয়ে মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ২৩ জনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিটের ১৫ জন ডুবুরি উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে। এছাড়া কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ সহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, উদ্ধার হওয়া ২৬টি লাশের মধ্যে ২৩টি ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর তিনটি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বারবার হ্যান্ড মাইকে বলছেন, কারও স্বজন নিখোঁজ থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









