ক্রিকেটের চিরাচরিত ব্যাকরণ ও আইনকানুনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এই সংস্থাটি ক্রিকেট আইনে মোট ৭৩টি সংশোধনী যুক্ত করেছে, যা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিশ্বব্যাপী কার্যকর করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এসেছে একের অধিক দিনব্যাপী ম্যাচগুলোতে (টেস্টসহ) দিনের শেষ ওভার সংক্রান্ত নিয়মে। নতুন নিয়ম বলা হয়েছে, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে ওভারটি সম্পূর্ণ করতেই হবে। অর্থাৎ পরদিনের সকালে বাকি বল আর খেলানো যাবে না।
সংশোধিত আইন ১২.৫.২ অনুযায়ী, এখন থেকে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ব্যাটারকে মাঠে নামতে হবে এবং ওভারের বাকি বলগুলো খেলতে হবে। আগে ব্যাটিং দল চাইলে বাকি বল পরদিনে নিতে পারত, যা এখন আর সম্ভব নয়।
এমসিসির ভাষায়, ‘দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা থেমে যাবে না। এটি বহুদিনের ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আনবে। ফিল্ডিং দল যদি শেষ ওভারে উইকেট নেয়, অথচ নতুন ব্যাটারকে নামতে না হয়, এটি ন্যায্য নয়।’
এমসিসির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাটিং দলের জন্য অযৌক্তিক সুবিধা তৈরি করে এবং ম্যাচের নাটকীয়তা কমিয়ে দেয়। কারণ এতে নতুন ব্যাটার কঠিন পরিস্থিতিতে নামা এড়াতে পারেন, অথচ পরদিন আবার বাকি বল খেলতেই হয়।
নতুন আইনে বাউন্ডারি লাইনের কাছে নেওয়া ক্যাচের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে ফিল্ডার বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে শূন্যে থাকা অবস্থায় মাত্র একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। ক্যাচ সম্পূর্ণ করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আইসিসি এরই মধ্যে এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত করেছে।
প্রথমবারের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এমসিসি। বিভিন্ন কাঠ একত্র করে তৈরি এই ব্যাট তুলনামূলক সস্তা। উইলো গাছ বড় হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং ব্যাটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। তবে কোন স্তরে এই ‘টাইপ ডি’ ব্যাট ব্যবহার হবে, তা সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ড নির্ধারণ করবে।
হিট উইকেট আউটের সংজ্ঞাও আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ব্যাটার বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে কিছুক্ষণ পরে স্ট্যাম্পে পড়লেও তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে। তবে ভারসাম্য ফেরাতে গিয়ে কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্ট্যাম্পে পড়লে আউট হবেন না।
এছাড়া ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্ট্যাম্পে লাগলে ব্যাটার আউট হবেন। কিন্তু ব্যাট আগে উইকেটকিপার বা অন্য খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে পরে স্ট্যাম্পে লাগলে তা আউট হিসেবে ধরা হবে না।
ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আনা হয়েছে। স্ট্যাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বল ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে, আর কেবল বল থামানোর চেষ্টা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডেড বল আইনেও পরিবর্তন এসেছে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বল ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন।
নতুন আইনে ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক আর ইনিংস ঘোষণা (ডিক্লেয়ার) দিতে পারবেন না।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ‘১৭৮৭ সাল থেকে ক্রিকেটের আইন পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের লক্ষ্য, এই আইনগুলো যেন আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।’
নতুন আইন কার্যকরের আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগুলো প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আইন প্রয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









