যত সময় যাচ্ছে, ততই ক্রিকেটের দীর্ঘতর ফরম্যাটগুলোর চাহিদা কমছে। টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি এখন এক দিনের ক্রিকেট নিয়েও বিভিন্ন দেশের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
ক্রিকেটকে বাঁচাতে এবং আর্থিক লাভ বাড়াতে জানুয়ারি থেকে আইপিএল শুরুর প্রস্তাব দিলেন ললিত মোদী।
তার দাবি, হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাট মিলিয়ে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের আইপিএল আয়োজন করা হোক। তাতে বাড়ুক ম্যাচ এবং প্রতিযোগিতার দিনের সংখ্যা। আইসিসি-র চেয়ারম্যান জয় শাহকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
প্রথমে মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ বার্তা লিখেছেন। পরে ‘ক্রিকবাজ’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। মোদী লিখেছেন, বিসিসিআই সচিব থাকাকালীন আইপিএলের সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ ৪৮,৩৯০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে বোর্ড। ফলে তার ও জয় শাহের চেয়ে ভাল ক্রিকেটীয় অর্থনীতি আর কেউ বোঝে না। আইপিএল-কে পরের ধাপে নিয়ে যেতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
দ্বিপাক্ষিক এবং আইসিসি প্রতিযোগিতায় সম্প্রচার নিয়ে আগ্রহ কমছে। এ অবস্থায় বিসিসিআই-কে এগিয়ে এসে আইপিএলের প্রচার করার অনুরোধ করেছেন মোদী। তার দাবি, এখন থেকেই তৈরি হতে হবে বিসিসিআইকে। আগামী দিনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই বিশ্ব দাপাবে বলে মত তার।
মোদীর ব্যাখ্যা, দশ দল নিয়ে, হোম-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা হলে ৯০টি লিগের ম্যাচ হবে। চারটি প্লে-অফ নিয়ে ৯৪টি ম্যাচ। প্রতিটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে দু’বার করে খেলবে। প্রতিটি দলের সমর্থক সব বিপক্ষ দলের খেলা দেখতে পাবেন। বেশি দিন ধরে খেলা হলে লাভও বাড়বে। তাই এখন থেকে ছন্দ, প্রয়োজনীয় বিরতি, প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি।
জানুয়ারিতে অনেক দলেরই ঘরোয়া ক্রিকেট বা লিগ থাকে। সেগুলি যাতে সঠিকভাবে অন্য সময় আয়োজন করা যায় তার উদ্যোগ আইসিসিকেই নিতে হবে বলে দাবি মোদীর।
জানুয়ারি থেকে আইপিএল হলে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচিও পুরোপুরি বদলে যাবে। শাহ চান, আইপিএলকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ক্রিকেটারদের সঠিক বিশ্রামেরও ব্যবস্থা করতে হবে। আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বলেছেন মোদী।
মোদী জানিয়েছেন, তিনি আইপিএল শুরু করার সময় অনেক বাধা এসেছিল। ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং তা বেড়ে চলেছে। মানুষও এই প্রতিযোগিতাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। সেটাই কাজে লাগানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









