টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের নদ-নদীতে মাছ শিকারে ফিরেছেন জেলেরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে মাছ ধরার পর ভোর থেকে ইলিশ, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরতে শুরু করেন তারা। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে মাছের ঘাট। তবে মাছের আমদানি শুরু হলেও ইলিশের দাম কমেনি।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর মেঘনা, কালাবদর, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ ধরতে নামেন জেলেরা। শুক্রবার সকাল থেকে পোর্ট রোডের ঘাটে মাছবোঝাই নৌকার আগমন শুরু হয়। আড়তদার, পাইকার ও শ্রমিকদের ব্যস্ততায় ঘাটে ফিরে আসে চেনা কর্মচাঞ্চল্য।
জেলে আবুল হোসেন জানান, সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে তাদের জালে পাওয়া ইলিশ বিক্রি করে মোট ১৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। রাতে আবারও নদীতে মাছ ধরতে যাবেন তারা। তবে কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পোর্ট রোডের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘাটে মাছ আসতে শুরু করলেও ইলিশের দাম কমেনি। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় পাঙ্গাশ কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট পাঙ্গাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপর আড়তদার সেলিম মিয়া বলেন, প্রথম দিনের মাছের আমদানি দেখে সামগ্রিক সরবরাহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। শনিবার মাছের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করলে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন জানান, ঘাটে বড় ইলিশ তুলনামূলক বেশি এলেও ছোট ইলিশের পরিমাণ কম। প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছের আমদানি হয়নি। তবে পাঙ্গাশ ধরা পড়ায় জেলেদের কিছুটা স্বস্তি মিলছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার ফলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশের প্রাপ্যতাও বাড়ছে।
নদীতে ইলিশের সরবরাহ কতটা বাড়ে এবং এর প্রভাবে বাজারে দাম কমে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন জেলে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









