কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ছেমন আরা (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ তিনটি বন্য হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে দেয়। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় হাতির পালটি তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছেমন আরা ও তার শিশুকন্যা আসমা বিবি হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদ বলেন, “বনাঞ্চল উজাড় ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে।” দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠানো হয়েছে এবং বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









